দেশ 

শেয়ার বাজারে বিশাল ধস! সাত সপ্তাহে ৫ লক্ষ কোটি টাকার লোকসান! দেশের অর্থ ব্যবস্থায় বড় আঘাত!

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক: দেশের শেয়ারবাজারে বিরাট ধস। গত ছয় মাসের মধ্যে এটা হচ্ছে সব সর্বনিম্ন ধস।শুধু তা-ই নয়, এই নিয়ে টানা সাত সপ্তাহের লেনদেনে স্টকের রক্তক্ষরণ অব্যাহত থাকায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে লোকসানের অঙ্ক। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, সব মিলিয়ে পাঁচ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে বিনিয়োগকারীদের।

এদিন সকালে বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই লাফিয়ে লাফিয়ে নামতে থাকে শেয়ার সূচক। দিন শেষে দেখা যায় ১,১২৪.০২ পয়েন্ট পড়েছে সেনসেক্স। ফলে, ৭২,৭৭১.৭২ পয়েন্ট পৌঁছে দৌড় থামায় বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (বিএসই)। শতাংশের নিরিখে এর পতনের পরিমাণ ১.৫২। একই ছবি দেখা গিয়েছে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জেও (এনএসই)।

সোমবার, ১.৫৬ শতাংশ পড়ে যায় নিফটি-৫০। ফলে, ৩৬০.২৫ পয়েন্ট নেমেছে এনএসই-র এই সূচক। শুধু তা-ই নয়, বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় শেয়ার বাজারটি দাঁড়িয়ে আছে ২২,৭৮০.২৫ পয়েন্টে। সপ্তাহের প্রথম লেনদেনের দিনে সেনসেক্স-নিফটির ‘দুর্বল ব্যাটিং’ দেখে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞ মহল। যদিও আপাতত পরিস্থিতি বদলের কোনও আশা দেখাতে পারেননি তাঁরা।

ব্রোকারেজ ফার্মগুলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এদিন ১.৬ শতাংশ কমেছে নিফটি মিডক্যাপের সূচক। পাশাপাশি, নিফটি স্মলক্যাপ হ্রাস পেয়েছে ১.৮ শতাংশ। সোমবার, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে সর্বাধিক লোকসানের মুখ দেখেছেন জ়িয়ো ফিন্যান্সশিয়াল, টাটা মোটর্‌স প্যাসেঞ্জার ভেহিকেল্‌স, লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো, আদানি এন্টারপ্রাইজেজ এবং আদানি পোর্টসের লগ্নিকারীরা।

অন্য দিকে, ‘মরা’ বাজারেও মুনাফা দিয়েছে টেক মাহিন্দ্রা, ডক্টর রেড্ডিস ল্যাব এবং ইনফোসিস। যদিও দিনভর বাজারের প্রতিটা ক্ষেত্রকে লালরেখায় থাকতে দেখা গিয়েছে। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সূচক তিন শতাংশ, টেলি পরিষেবার ২.৩ শতাংশ, জ্বালানি, পরিকাঠামো, ভোগ্যপণ্য, রিয়েল এস্টেট, বেসরকারি ব্যাঙ্ক, ধাতুশঙ্কর এবং তেল ও গ্যাসের সূচক কমেছে। এক শতাংশ।

এদিন ১৯০টি স্টকে ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্ন দর দেখতে পাওয়া গিয়েছে। সেই তালিকায় নাম আছে আইআরবি ইনফ্রা, ইন্ডিয়া সিমেন্টস, ব্যাঙ্ক অফ বরোদা, আদিত্য বিড়লা লাইফস্টাইল, টাটা কনজ্যুমার, অম্বুজা সিমেন্ট, সিইএসই, টাটা মোটর‌স প্যাসেঞ্জার ভেহিকেল্‌স, হিন্দুস্তান ইউনিলিভার লিমিটেড এবং জেনারেল ইনস্যুরেন্সের।

সেনসেক্স-নিফটির খাদে নামার দ্বিতীয় কারণ হিসাবে বিশ্বব্যাপী সরকারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধিকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। এটা বিগত বেশ কয়েক বছর দেখা যায়নি। এ ছাড়া, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন বিদেশি লগ্নিকারীরা। এই পরিস্থিতিতে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারের তালিকায় সরকারি-বেসরকারি ব্যাঙ্ক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি জায়গা পাওয়ায় আরও বাড়ছে উদ্বেগ।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ